পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...
মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০২৪

গোবিন্দগঞ্জের এক কুমারপাড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ২০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, (গোবিন্দগঞ্জ) গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একটি কুমারপাড়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বেশ কিছুদিন থেকে ওই পাড়ায় ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও তা সাধারণ জ¦র ভেবে তেমন কোন চিকিৎসা করা হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ বা বাইরের মানুষও বিষয়টি জানতে পারেনি। ইতোমধ্যেই এর প্রকোপ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ও আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এই রোগে উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১শ’ ১০ জন। এর মধ্যে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ জন আর বাকীরা বাড়ী থেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার মৃৎশিল্পী অধ্যুষিত কোচাশহর ইউনিয়নের শক্তিপুর কুমারপাড়াতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নারী ও শিশুসহ ২০ জন। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে এখানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাধানে আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি চলমান রয়েছে মশক নিধন অভিযান।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের শক্তিপুর কুমারপাড়ায় ২০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। শুরুতেই এখানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল পাঁচজন। বিস্তার লাভ করে বর্তমানে তা ২০ জনে পৌঁছে গেছে। তবে সষ্ঠু চিকিৎসা ও নিয়মের মধ্যে আনতে না পারলে এ পাড়ার ১৩৪ পরিবারের সকল মানুষের মাঝে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

ডেঙ্গুর কারণ হিসেবে এলাকাবাসী জানান, বাড়ীর আশপাশে ডোবা এবং মজা পুকুর এবং কুমারপাড়ায় মাটির তৈজষপত্র তৈরীতে ব্যবহৃত পানি পাত্রের ব্যাপকতার কারণে এখানে এডিস মশক উৎপন্ন হচ্ছে। আবার আক্রান্ত রোগীদের নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে রেখে মশারী ব্যবহার না করায় ও খোলামেলা পরিবেশে চিকিৎসা দেয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু।

কোচাশহর ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জাহিদ ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। সেই সাথে ডেঙ্গু মশা নিধনে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি ফগার মেশিনে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে ডেঙ্গুর লাভা ধ্বংসে ওষুধ প্রয়োগ কার্যক্রম চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফাহাদ আল আসাদ জানান, এখানকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। গত পাঁচদিন ধরে একটি টিম সার্বক্ষণিক ডেঙ্গু উপদ্রুত কুমারপাড়ায় রোগীদের পর্যবেক্ষণ, ডেঙ্গু টেস্ট ও আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ বিভাগ সচেতন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেককে রংপুর ও বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

বিশেষ সংবাদ