পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...
রবিবার, জুন ২৩, ২০২৪

গাইবান্ধায় অনাবৃষ্টিতে পাট পচানোর পানি নেই, চাষির কপালে চিন্তার ভাঁজ

গাইবান্ধা প্রতিবেদক:
শ্রাবণ মাস। চলছে বর্ষাকাল। বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টিপাত তেমন না থাকায় খাল বা জলাশয়ে নেই পানি। অনাবৃষ্টি, খরা, প্রচন্ড তাপদাহে গাইবান্ধার নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয়গুলো শুকিয়ে গেছে। ফলে জমিতে পাট বপন করে চাষির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কেননা বপন করা পাট এখন কাটার উপযুক্ত হলেও পানির অভাবে কাটতে পারছেন না তাঁরা। আবার যাঁরা কেটেছেন, তাঁরা জাগ দিতে পারছেন না। এতে পাট জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে।

চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু অনাবৃষ্টিতে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বৃষ্টির আশায় তারা পাট কেটে জমিতে স্তুপ করে রাখছেন দিনের পর দিন। অনেকে সেচ মটর দিয়ে নিচু জলাশয়ে পানি ভর্তি করে পাট পচাঁনোর ব্যবস্থা করলেও দু’তিন দিনের মধ্যে সেই পানিও শুকিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে বসতবাড়ির আঙিনায়, পতিত জমি ও বাগানের ভেতরে মাটি খুঁড়ে গর্ত করে পাট জাগ দিচ্ছেন তারা। অনেকে বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে জমি থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরের খাল বা পুকুরের পানিতে নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত শ্রমিক ও পরিবহন খরচ হওয়ায় পাটের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাট চাষ টিকিয়ে রাখতে এর মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছেন চাষিরা।

গাইবান্ধা জলবায়ু পরিষদের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জেলায় বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় পনেরশ’ মিলিমিটার, তবে এই বৃষ্টির বেশিরভাগই হয় (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) বর্ষা মৌসুমে। এখানে শুষ্ক মৌসুম চলে অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত। শুষ্ক মৌসুমে গাইবান্ধায় গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর গড় আর্দ্রতা প্রায় ৭০%। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুম দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। খরাপ্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।

গাইবান্ধায় তোষাপাটের চাষাবাদ চরাঞ্চলগুলোতেই বেশি। ইতিমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পাট পচাঁনোর জন্য ১০ হতে ১২দিন সময় লাগে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ হতে ৯ মন পাট উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজারে প্রতিমন পাট বিক্রি হচ্ছে গ্রেড অনুযায়ী আড়াই হাজার হতে তিন হাজার টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পাট অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলার সাত উপজেলায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর বিপরীতে চাষ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১৩ হেক্টর বেশি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা গ্রামের পাট চাষি তারা মিয়া জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ছিলেন। গত ১০দিন হল পাট কেটে জমিতে স্তুপ করে রেখেছেন, পানি না থাকার কারনে পচাঁনোর জন্য জাগ দিতে পারছে না। ইতিমধ্যে জমিতে তার পাট শুকিয়ে গেছে। বাড়ীর পাশের জলাশয়ে সেচ মটর বসিয়ে পানি ভর্তি করে পাট পচাঁনোর ব্যবস্থা করা হলেও পানি দিতে হচ্ছে প্রতিদিন। এতে করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাটের রং নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। পাটের রং ভাল না হলে দাম ভাল হবে না। এমনকি খরচও উঠবে না।

সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ডাঙ্গার চরের মফিজল হক জানান, তিস্তার শাখা নদীতে তার দুই বিঘা জমির পাটের জাগ পানির অভাবে শুকনা জায়গায় পড়ে রয়েছে। শাখা নদীতে পানি দেয়ার মত কোন ব্যবস্থা নেই। মহাবিপাকে পরেছেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধার উপপরিচালক মো. খোরশেদ আলম বলেন, এবার অতিরিক্ত খরা কাটিয়ে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলনও হয়েছে। তবে বৃষ্টি না থাকা ও মুক্ত জলাশয় কমে যাওয়ায় পাট পচানো নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় আছেন। পাট চাষ বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা বাড়ানো ও মুক্ত জলাশয় খনন করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

বিশেষ সংবাদ