পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...
রবিবার, জুন ২৩, ২০২৪

শীতের আবহে ফিরছে গ্রামীন ঐতিহ্য ঢেঁকি 

জাহিদ হাসান:

একটা সময়ে গ্রামীণ পরিবেশ মানেই বাড়ির ধারে খড়ের পালা, গোয়ালে গরু, উঠানের কোণে থাকা ঢেঁকি। ধান কুটে চাল, আটা, চিড়া তৈরি সবকিছুতে এই ঢেঁকি ছিল গ্রামবাংলার আটপৌরে মানুষের সঙ্গী। আদিকালে ঢেঁকিতে ধান কুটা চাল থেকেই রান্না করে হতো ভাত। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ার প্রায় হারিয়ে গেছে ঢেঁকি। 

উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার অনেক এলাকায় শীতকালে ঢেঁকি দেখা যায়। কারন শীতে জামাই পিঠা তৈরিতেও ব্যস্ত গ্রামের নারীরা আর এই পিঠা তৈরির আটা কুটতে হয় ঢেঁকিতে। 

সাঘাটা উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের লাকী বেগম। টানাপোড়া সংসার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সংসারে চার মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়েকে রংপুর ও মেজো মেয়েকে বগুড়া জেলায় বিবাহ দিয়েছেন। অভাবের সংসারে  মেয়ে জামাইকে শীতের পিঠার দাওয়াত দিবেন। তাই ঢেঁকিতে তৈরি করছেন চাল থেকে আটা। 

লাকী বেগম বলেন,‘আমার মেয়ে জামাইকে পিঠার দাওয়াত দিতে হবে সে জন্য ঢেকিতে আটা তৈরি করছি। শীতে পিঠা তৈরি করে জামাই ও বিয়াই-বিহাইনকে দাওয়াত দিবো। আমি পুলি পিঠা,ভাপা পিঠা, তৈলভাজা পিঠা ও জামাই পিঠা তৈরি করবো।’ 

একই গ্রামের রেজাউল করিম জানান,আমার বাড়িতে একটি ঢেঁকি আছে। এই ঢেঁকিতে গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার মহিলারা আসে প্রায় প্রতিদিন আসে চাল থেকে আটা কুটতে । আমি মনে করি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই ঢেকি।

হাটবাড়ী গ্রামের নুরী বেগম জানান, শীতকালে পিঠার স্বাদ আলাদা। আমি প্রতি বছর শীতে পিঠা তৈরি করি। বাজার থেকে যে সব চালের আটা কিনতে পাওয়া যায় তার পিঠা স্বাধ কম লাগে তাই আমরা ঢেঁকিতে চাল থেকে আটা কুটি।
ঢেঁকির তৈরি আটার পিঠার স্বাদ বেশী হয় বলে জানান বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুল তাইড় গ্রামের রাবেয়া বেগম। বললেন, আমরা ঢেঁকিতে চাল কুটে আটা তৈরি করি। পিঠা ফোলে বেশী। মেশিনের তৈরি আটার পিঠা তেমন ফোলে না। স্বাদও কম হয়। এ জন্য পিঠার জন্য আটা তৈরিতে ঢেঁকিই আমাদের ভরসা।

গাইবান্ধা উদ্যোক্তা ফোরামের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান,‘আমরা ঢেকি ছাটা চাল বাজার জাত করতে সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী গ্রামে উদ্যোক্তা তৈরি করেছি । আমরা চাই গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেকি চিরদিন টিকে থাকুক।’

প্রবীণ নাট্যকার ও সাংবাদিক অমিতাভ দাশ হিমুন জানান, পিঠা ও জামাই মেলা নিয়ে আসে শীত। শীত না এলে কবিতা পূর্ণতা পায় না। তাই কবিতায় মিশে আছে শীতের শত ভাবনা। তবে শীতের পিঠা তৈরিতে যে আটা ব্যবহার করা হয় এই আটা ঢেঁকিতে কুটা হয়। দিন দিন এই ঐতিহ্য হাড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, কৃষি গবেষক ও  বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম বলেন,আমাদের বাপ-দাদার বা তার পুর্বপুরুষের কাল থেকে ঢেঁকির প্রচলন ছিল। গ্রামের আনাচে-কানাচে বৈদ্যুতিক আধুনিক যন্ত্রের কারণে হাড়িয়ে যাচ্ছে গ্রামীন ঐতিহ্য ঢেঁকি। যে ভাবে আধুনিকতার ছোয়ায় গ্রামীন ঐতিহ্যগুলো হাড়িয়ে যাচ্ছে তাতে আগামীতে এই ঢেঁকি দেখতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ইউটিউবে।

তথ্যসূত্রঃজয় যুগান্তর

আরো পড়ুন

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

বিশেষ সংবাদ