পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...
মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০২৪

দল ছেড়ে ভোটের মাঠে বিএনপির ৩৮ নেতা

ছয় দফা নিউজ ডেস্ক:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি, কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েক নেতা শেষ পর্যন্ত দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে তারা মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন। এ পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৮ নেতা রয়েছেন ভোটের মাঠে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আছেন যারা আগেই ঘোষণা দিয়ে বিএনপি থেকে সরে গিয়ে নতুন নতুন দলের ব্যানারে প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচনে প্রার্থীদের যে তালিকা পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির কেউ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নির্বাহী সদস্য পদে থাকা কয়েকজন প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতা। শুধু পদে থাকা নেতারাই নন, দলটি থেকে অতীতে বহিষ্কৃত, পদচ্যুত অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী কয়েকজনও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের কেউ কেউ নবগঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), কেউ তৃণমূল বিএনপি আবার কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগ থেকেই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ দল থেকে পদত্যাগ করছেন। অনেকেই কোনো ঘোষণা না দিয়েই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এ বিষয়ে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি তাদের দল থেকে বহিষ্কার করছে।

তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিভিন্ন সময়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব বহিষ্কারের কথা জানান। বহিষ্কৃত ১৪ নেতার মধ্যে আটজনই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন। তারা হলেনÑ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ একে একরামুজ্জামান, তাঁতীবিষয়ক সহসম্পাদক রাবেয়া ভুঁইয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, শাহ শহীদ সারোয়ার, মতিউর রহমান মন্টু, খন্দকার আহসান হাবিব ও একেএম ফখরুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিএনপি দল হিসেবে অংশ না নিলেও তাদের ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩০ জন সাবেক এমপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

দলের নেতাদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটাকে আমরা খুব বড় ঘটনা হিসেবে দেখছি না। এত বড় দল থেকে দু-চারজন বেরিয়ে গেলে তেমন কিছু হয় না। সরকারের চাপে পড়ে যে কজন গেছেন, তাদের ছাড়াই দল ভালোমতো চলবে।’

সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর জামিনে মুক্তি পেয়ে ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন। বিএনপিও তাকে বহিষ্কার করেছে। এ আসন থেকে তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ একে একরামুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে। বিএনপি থেকে বেরিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন শাহ মো. আবু জাফর। তিনি বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন। তার নির্বাচনী আসন ফরিদপুর-১। এ আসন থেকে ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির এবং ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবু জাফর।

বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী এই মুহূর্তে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি সিলেট-৬ আসনে নির্বাচন করবেন। আর তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচন করবেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে। কুমিল্লা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ।

বিএনপি থেকে ছিটকে পড়া আরেক নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন তিনি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক নেতা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি নাজিম উদ্দিন নবগঠিত প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম-৫ আসনে তৃণমূল বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এই দলের সাধারণ সম্পাদক, চাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির সাবেক নেতা আজিম উদ্দিন ফেনী-৩ আসনে তৃণমূল বিএনপি থেকে নির্বাচন করছেন।

চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মনজুর আলম প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ থেকে। বিএনপির নির্বাহী সদস্য খন্দকার আহসান হাবিব টাঙ্গাইল-৫ আসনে, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ঝালকাঠি-২ আসনে, শাহ শহীদ সারোয়ার ময়মনসিংহ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু নওগাঁ-২ আসনে প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তৃণমূল বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় যে পাঁচজন সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন তার মধ্যে চারজনই বিএনপির সাবেক এমপি। তারা হলেনÑ মৌলভীবাজার-২ আসনের এম এম শাহীন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের এইচ এম গোলাম রেজা, ঝিনাইদহ-২ আসনের নুরুদ্দিন আহমেদ ও মেহেরপুর-২ আসনের আবদুল গণি।

গাজীপুর মহানগর বিএনপি নেতা ও বাসন থানা বিএনপির সহসভাপতি জব্বার সরকার, সাবেক ছাত্রনেতা ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোজাফফর আহমেদ ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি আব্দুল কাদির তালুকদার তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন।

বিএনএম থেকে যে ছয়জন সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে দুজন বিএনপির সাবেক এমপি। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে বিএনপির এমপি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন বরগুনা-২ আসনে। ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত দেওয়ান শামসুল আবেদীন প্রার্থী হয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনে।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার চারটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন বগুড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েক নেতা। যাদের এরই মধ্যে বহিষ্কারও করা হয়েছে। বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো. শুকরান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বগুড়া-১ আসনে। চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মোল্লা বগুড়া-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরকার বাদল প্রার্থী হয়েছেন বগুড়া-৭ আসনে। বগুড়া জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বিউটি বেগম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বগুড়া-২ আসনে।

শেরপুর জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক জায়েদুল রশিদ শ্যামল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শেরপুর-২ আসনে। জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ শেরপুর-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনএম থেকে। জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুল হাসান প্রার্থী হয়েছেন জামালপুর-১ আসনে। বিএনপির সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন খান দুলু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ আসনে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ওলামা দলের সাবেক আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল মতিন প্রার্থী হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে।

শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব প্রার্থী হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনে। দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সদস্য খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন টাঙ্গাইল-৬ আসনে। ধামরাই পৌরসভা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জুকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

এ ছাড়াও বিএনপি-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ডা. আসমা শহীদ ফরিদপুর-২ আসনে, সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক নীলফামারী-৪ আসনে নির্বাচন করছেন।

আরো পড়ুন

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

বিশেষ সংবাদ